কলকাতার ইস্কন মন্দিরে আজ হয়ে গেল জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা - Newsbazar24
কলকাতা

কলকাতার ইস্কন মন্দিরে আজ হয়ে গেল জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা

কলকাতার  ইস্কন মন্দিরে আজ হয়ে গেল জগন্নাথ দেবের  স্নান যাত্রা

কলকাতা,রাজকুমার দাস:- মানুষের শুধু নয় আবেগের কাছে প্রভু জগন্নাথ বাঙালির মনে প্রাণে জড়িত।আজ তাই গুরুসদয় রোডের ইস্কন ছিল প্রভুর স্নান যাত্রার সাক্ষী।একমাত্রস্নান যাত্রা তে যে কেউ অভিষেক করাতে পারে।।।যেই গৌর, সেই কৃষ্ণ, সেই জগন্নাথ।ভগবান জগন্নাথদেব হলেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং যিনি জগতেরনাথ বা জগদীশ্বর। সংস্কৃতি ভাষায় জগত অর্থে বিশ্ব এবং নাথ অর্থে-ঈশ্বর বোঝায়। সুতরাং জগন্নাথ শব্দের অর্থ হলো জগতের ঈশ্বর বা জগদীশ্বর।স্কন্ধ পুরানে রথযাত্রার মহিমা বর্ননা করে বলা হয়েছে- যিনি গুন্ডিচা মন্দিরে (জগন্নাথের মাসীর বাড়ী) ভগবানের শ্রীবিগ্রহকে দর্শন করার সৌভাগ্য অর্জন করেন, তিনি সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ করেন।জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রাআজ ১৭জুন ২০১৯ জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা মহোৎসবভগবান জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ দেবের এক বিশেষ স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আজ এই স্নান যাত্রা কলকাতার ইস্কন মন্দিরে হয়ে গেল কয়েকশো ভক্তের উপস্থিতিতে।স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদুম্ন যখন জগন্নাথদেবের কাঠের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করলেন তখন থেকে এই স্নান যাত্রার উৎসব শুরু। স্নান যাত্রার দিনটিকে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথি বা জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। স্নান যাত্রার আগের দিন জগন্নাথ, বলরাম,সুভদ্রা দেবী এবং সুদর্শন দেবকে বেদী থেকে বিশেষ ভাবে তৈরি করা স্নান বেদীতে নিয়ে আসা হয়। পুরীর মন্দির প্রাঙ্গনে বিশেষ ভাবে তৈরি করা এই মণ্ডপকে বলা হয় স্নান মণ্ডপ। এটা এত উঁচু যে মন্দির প্রাঙ্গনের বাইরে থেকেও বেদিতে উপবিষ্ট বিগ্রহ সমূহঅবলোকন করা যায়।অনুষ্ঠানের দিন স্নান মণ্ডপকে ঐতিহ্যবাহী ফুল, বাগান ও গাছের চিত্রকল্প দ্বারা সজ্জিত করা হয়। তোরণএবং পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এর পর বিগ্রহের উদ্দশ্যে ধুপ, ধুনা অর্পণ করা হয়।পুরীতে স্নানের জন্য সোনার তৈরি এক ধরনের কুয়া থেকে জল আনা হয়। জল আনার সময় পুরোহিতরা তাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন যাতে জল তাদের মুখনিঃসৃত কোন কিছু দ্বারা এমনকি তাদের নিঃশ্বাস দ্বারা দূষিত না হয়।স্নান মহোৎসবের পূর্বে জগন্নাথ,বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীকে সিল্কের কাপড় দ্বারা আবৃত করা হয় এবং তারপর লাল এক ধরনের পাউডার দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। ১০৮ টি স্বর্ণ পাত্র জল দ্বারা পূর্ণ থাকে।এই জল দ্বারা অভিষেক করা হয়। অভিষেকের সময় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ,কীর্তন এবং শঙ্খ বাজানো হয়।এরপর জগন্নাথ দেব এবং বলরাম দেবকে হাতি বেশে সাজানো হয়। এই সময় সুভদ্রা দেবীকে পদ্ম সাজে সাজানো হয়। স্নান যাত্রা উৎসবের পর ১৫ দিন ভগবানকে জনসাধারণ থেকে দূরে রাখা হয়। এই ১৫ দিন মন্দিরে কোন অনুষ্ঠান করা নিষেধ। এই সময় ভগবান জগন্নাথ , বলরাম এবং সুভদ্রাদেবীকে রতন বেদী নামে এক বিশেষ বেদীতে রাখা হয়। এই সময়কে বলা হয় অনাবাসর কাল মানে পূজা করার জন্য অযোগ্য সময়। স্নান করানোর ফলে বিগ্রহ সমূহ বিবর্ণ হয়ে যায়। এই ১৫ দিনে জগন্নাথ দেবকে আগের সাজে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৬ তম দিনে জগন্নাথ দেবকে আবার সবার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।১৬ তম দিন থেকেই রথ যাত্রা শুরু।ভগবান জগন্নাথ দেব তার ভক্ত দের ক্রিপা করার জন্য রাজ পথে নেমে আসেন। শুরু হয় জয় জগন্নাথের ধ্বনি, রথ যাত্রা র শুরু।এই বছর রথ ৪ঠা জুলাই। কলকাতা গুরু সদয় রোডের ইস্কন এর রাধারমণ মহারাজ জানান আজ প্রভুর স্নান যাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হোল, ভক্তদের সমাগমে যার পুন্যতা পেল।প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও রথ যাত্রা উৎসব পার্ক স্ট্রিট এ মাঠে পালন করা হবে।

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news